আবাসন খাতের দীর্ঘস্থায়ী মন্দা এবং সাধারণ মানুষের কেনাকাটা বা খরচের প্রবণতা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিক্কেই এশিয়ার এক সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির মূল ভূখণ্ডের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশই বর্তমানে লোকসানে রয়েছে। ২০০০ সালের পর এটিই লোকসান করা কোম্পানির সর্বোচ্চ অনুপাত।
সাংহাই ডিজেডএইচ নামক একটি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের উপাত্ত ব্যবহার করে নিক্কেই এশিয়া জরিপটি পরিচালনা করে। এতে সাংহাই ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি কোম্পানির মধ্যে ১ হাজার ৪৪৩টি কোম্পানি গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত বছরে নিট লোকসানের পূর্বাভাস দিয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় লোকসানে থাকা কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। তুলনা করলে দেখা যায়, জাপানের টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান বাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ২ শতাংশ লোকসানের শিকার হয়েছে।
চীনের এ অর্থনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে আবাসন খাতের বিপর্যয়। আবাসন খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ‘চায়না ভানকে’ গত বছর প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের (৮ হাজার ২০০ কোটি ইউয়ান) বিশাল নিট লোকসান গুনেছে। আবাসন খাতের তালিকাভুক্ত ১০০টি কোম্পানির মধ্যে ৫৮টিই এখন লোকসানে রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। সম্পদের মূল্য কমে যাওয়ায় ভোক্তারা কেনাকাটায় আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছেন।
খুচরা বিক্রি ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর অবস্থাও বেশ নাজুক। আসবাবপত্র বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রেড স্টার ম্যাকালিন গ্রুপ ও সুপারমার্কেট চেইন ইয়ংহুই সুপারস্টোরস বিশাল অংকের লোকসান করেছে। ব্যয় কমাতে ইয়ংহুই তাদের ৩৮০টি শাখা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি চান্দ্র নববর্ষের ছুটি নয়দিন বাড়িয়েও অর্থনীতিতে বড় কোনো গতি ফেরানো সম্ভব হয়নি। আয় কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ উৎসবের সময়ও হাত খুলে খরচ করতে পারছে না বলে উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।
সৌরশক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান লঙ্গি গ্রিন এনার্জি ও জিংকো সোলারও বড় অংকের লোকসানের কথা জানিয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদনের বিপরীতে চাহিদা না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে এর মধ্যেও চিপ উৎপাদন ও এআই খাতের কোম্পানিগুলো ভালো মুনাফা করছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর ও দুষ্প্রাপ্য খনিজ শিল্পের কোম্পানিগুলো তাদের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তি খাত কিছুটা চাঙ্গা থাকলেও আবাসন সংকটের চাপে চীনের মূল অর্থনীতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করছে।